Click This Advertisement

Showing posts with label ফুসফুসের ক্যান্সার. Show all posts
Showing posts with label ফুসফুসের ক্যান্সার. Show all posts

Monday, December 12, 2016

ক্যান্সারের যে ১০টি লক্ষণ সহজেই সনাক্ত করা সম্ভব


ক্যান্সারের কিছু লক্ষণ আছে, যা মানুষ নিজের অজান্তেই এড়িয়ে যায়। অথচ রোগবালাই শুরুতে ধরা পড়লে চিকিৎসা অনেক সহজ হয়। তাই আজ জানাবো ক্যান্সারের দশটি লক্ষণের কথা, যেগুলো সহজেই শনাক্ত করা সম্ভব। এই লেখাটি পরিবেশিত হলো ডয়েচ ভেলের সৌজন্যে।
ঘনঘন কাশি মাঝে মাঝে কাশি হলে উদ্বেগের কোনো কারণ নেই। কিন্তু ঘনঘন কাশি কিংবা কফের সঙ্গে রক্ত বের হলে, উদ্বিগ্ন হওয়ার মতো ব্যাপার বৈকি! বেশিরভাগ কাশি বিপদের না হলেও কিছুক্ষেত্রে তা ফুসফুসে ক্যান্সারের লক্ষণ হতে পারে। তাই এক্ষেত্রে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত।
অন্ত্রের অভ্যাসে ঘনঘন পরিবর্তন আপনার অন্ত্রের মধ্যে নড়াচড়া যদি সহজ না হয় এবং মল স্বাভাবিকের চেয়ে বড় কিংবা কোনোভাবে অস্বাভাবিক মনে হয়, তাহলে তা মলাশয়ে ক্যান্সারের লক্ষণ হতে পারে। তাই এক্ষেত্রেও দ্রুত চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করা জরুরি।
মূত্রথলির অভ্যাসে পরিবর্তন যদি কারো মূত্র বা প্রস্রাবের সঙ্গে রক্ত আসে, তাহলে তা মূত্রথলি বা কিডনির ক্যান্সারের লক্ষণ হতে পারেন। আবার মূত্রনালীতে সংক্রমণের কারণেও এটা হতে পারে। তাই সন্দেহ থাকলে চিকিৎসকের কাছে যাওয়াই শ্রেয়।
ঘনঘন অপ্রত্যাশিত ব্যথা অধিকাংশ ব্যথাই ক্যানসারের লক্ষণ নয়, তবে ঘনঘন ব্যথা হলে তা চিন্তার বিষয়। তবে ক্রমাগত মাথাব্যথা হলে আবার এটা ভাবার কারণ নেই যে, কারো বুঝি ব্রেইন ক্যানসার হয়েছে। কিন্তু বুকে ক্রমাগত এবং নিয়মিত ব্যথা ফুসফুসের ক্যান্সার কিংবা তলপেটে ক্রমাগত ব্যথা ডিম্বাশয়ের ক্যান্সারের লক্ষণ হতে পারে।
ক্ষতস্থান না শুকালে আপনার শরীরে কোনো ক্ষত যদি তিন সপ্তাহেও না শুকায়, তাহলে উদ্বিগ্ন হওয়ার কারণ থাকতে পারে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে তাই দ্রুত চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।
অপ্রত্যাশিত রক্তপাত মাসিকের সময় ছাড়া অন্য সময়ে যোনি থেকে রক্তপাত সার্ভিকাল ক্যান্সারের লক্ষণ হতে পারে৷ আর মলদ্বার থেকে রক্তপাতও কোনো কোনো ক্ষেত্রে ক্যান্সারের লক্ষণ হতে পারে।
অপ্রত্যাশিতভাবে ওজন কমা অনেকেই ওজন কমানোর জন্য নানারকম চেষ্টা করেন। কিন্তু যদি কোনোরকম চেষ্টা ছাড়াই কারো ওজন ক্রমাগত কমতে থাকে, তাহলে সেটা বিপদের লক্ষণ।
অপ্রত্যাশিত স্ফীতি শরীরের কোথাও কোনো অপ্রত্যাশিত স্ফীতি বা কোনো ফোলা স্থানের আকার পরিবর্তন হতে থাকলে চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করুন। মেয়েদের স্তনের মধ্যে কোনো অস্বাভাবিক মাংসপিণ্ডের উপস্থিতিও কিন্তু ক্যান্সারের লক্ষণ।
ঘনঘন গিলতে সমস্যা হলে এটা দু’ধরনের ক্যান্সারের লক্ষণ হতে পারে। ঘাড় এবং খাদ্যনালীর ক্যান্সার৷ তাই দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যান।
আঁচিল বা তিলের আকৃতিতে পরিবর্তন সব আঁচিল বা তিলের সঙ্গে টিউমারের সম্পর্ক নেই। তবে কোনো আঁচিল বা তিলের আকৃতি ক্রমাগত পরিবর্তন হতে থাকলে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যাওয়াই ভালো।

Friday, December 2, 2016

ফুসফুসের ক্যান্সার-Lung cancer

বিশ্বজুড়ে পুরুষের মধ্যে ফুসফুসের ক্যান্সার এবং মহিলাদের মধ্যে স্তন ক্যান্সারের প্রাধান্য লক্ষ করা যাচ্ছে। আমাদের দেশের অবস্থাও অনুরূপ। ব্যাপক ও অবাধ ধূমপান, খাবারের মেনুতে চর্বিযুক্ত খাবারের আধিক্যের জন্য এবং সর্বোপরি স্বাস্থ্যজ্ঞান সম্বন্ধে অসচেতনতার জন্য এই দু’টি রোগ বেড়ে যাচ্ছে। ফুসফুসের ক্যান্সার এবং এর চিকিৎসার অগ্রগতির ব্যাপারে সম্যক জ্ঞান লাভের নেশায় সিঙ্গাপুর ন্যাশনাল ক্যান্সার সেন্টারের আমন্ত্রণে দুই সপ্তাহের জন্য সেখানে অবস্থান করি। ক্যান্সার একটি মারাত্মক জটিল ব্যাধি। জটিলতা ও ভয়াবহতার দিক থেকে এইডসের পরেই ক্যান্সারের স্থান। ক্যান্সার হলো শরীরের কোষকলার অস্বাভাবিক বৃদ্ধি ও বিকৃতি। বিজ্ঞানীরা চিকিৎসাবিজ্ঞানে অনেক দূর অগ্রসর হওয়ার দাবি করলেও আজ পর্যন্ত ক্যান্সারের যথাযোগ্য প্রতিষেধক উদ্ভাবন করতে পারেননি। আসলে চিকিৎসাবিজ্ঞানীরা যে সফলতা এত দিন অর্জন করেছেন তার বেশির ভাগই জীবাণুঘটিত রোগের ক্ষেত্রে। অ্যান্টিবায়োটিকের কল্যাণে যক্ষ্মাসহ যেকোনো জীবাণুঘটিত রোগের নিরাময় মানুষের কাছে এখন খোলামেলা ব্যাপার। কিন্তু যে রোগের জীবাণুই নেই, সেখানে করার কী আছে? এখানেই এত দিন চিকিৎসাবিজ্ঞানীরা ছিলেন নিরুপায়।

ফুসফুসের ক্যান্সার

সিঙ্গাপুরের ক্যান্সার সেন্টারে কাজ করে মনে হয়েছে, ফুসফুসের ক্যান্সার চিকিৎসার নাটকীয় সাফল্য অর্জিত হতে যাচ্ছে।
অনেক ধরনের হয়ে থাকে। তবে আজকাল চিকিৎসার সুবিধার জন্য ফুসফুসের ক্যান্সারকে আমরা দুই ভাগ করে থাকি। স্মল সেল লাং ক্যান্সার ও ননস্মল লাং ক্যান্সার এ দুইভাগে ভাগ করে নিয়েছি আমরা। স্মলসেল লাং ক্যান্সার চিকিৎসার খরচ বেশ কম। ক্যাম্পটো নামে ওষুধটি প্রয়োগ করে এর চিকিৎসায় বেশ ভালো ফল পাচ্ছি। আর ননস্মল সেল লাং ক্যান্সার চিকিৎসায় বর্তমানে ব্যবহার করা হচ্ছে টেক্সোটিয়ার নামে ওষুধটি। তবে এটি মোটামুটি ব্যয়বহুল চিকিৎসা। টেক্সোটিয়ার আর সিসপ্লাটিনের মিলিত ব্যবহার নন স্মলসেল লাং ক্যান্সার চিকিৎসায় ব্যাপক সাফল্য বয়ে নিয়ে এসেছে। টেক্সোটিয়ার এই শতাব্দীতে ফুসফুসের ক্যান্সার চিকিৎসায় একটি বিস্ময়কর অবদান রাখবে বলে আশা করা যায়। বর্তমানে ক্যান্সার নিরাময়ে কেমোথেরাপি ও বিকিরণ চিকিৎসার প্রচলন রয়েছে। এই ধারার চিকিৎসায় রোগীর খারাপ কোষের সাথে সাথে ভালো কোষও মরে যায়; কিন্তু নতুন চিকিৎসায় শুধু ক্যান্সারসংক্রান্ত টিসুই লক্ষ্যবস্তু হবে। অর্থাৎ কেবল খারাপ কোষই মারা পড়বে, ভালো কোষের কোনো ক্ষতি হবে না। এই চিকিৎসায় পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া অনেক কম এবং এতই সম্ভাবনাময় যে, ক্যান্সার হয়তো অদূর ভবিষ্যতে জীবাণুঘটিত রোগের মতো চিকিৎসাযোগ্য হয়ে উঠবে।
ট্যাক্সোটিয়ার নামে ওষুধটি ফুসফুসের ক্যান্সারের প্রথম ও দ্বিতীয়পর্যায়ের চিকিৎসা হিসেবে প্রচলিত চিকিৎসার চেয়ে অনেক বেশি কার্যকর। মানুষ যে দ্রুত অগ্রসর হচ্ছে, এই উদ্ভাবন আবিষ্কারগুলো তারই জ্বলন্ত প্রমাণ। তবে ফুসফুসের ক্যান্সার যাতে না হতে পারে তার দিকেই বেশি খেয়াল রাখতে হবে। ফুসফুসের ক্যান্সার একটি প্রতিরোধযোগ্য ব্যাধি। কারণ ধূমপান পরিহার করলে ফুসফুসে ক্যান্সার হওয়ার ঝুঁকি অনেক কমে যায়। যে যত বেশি মাত্রায় এবং বেশি দিন ধরে ধূমপান করবেন তার এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কাও তত বেশি হবে। ধূমপানের মধ্যেও আবার কিছু ব্যাপার রয়েছে, যা এই রোগের আশঙ্কাকে বাড়িয়ে দেয়। যেমন সিগারেটের ধোঁয়া নিঃশ্বাসের সাথে ভেতরে দেয়া, একটি সিগারেটকে হাতের আঙুলের ফাঁকে না রেখে ঠোঁটের মধ্যে রেখে নিঃশ্বাস গ্রহণ করা, নেভানো সিগারেট আবার জ্বালিয়ে খাওয়া এবং সিগারেট খেতে খেতে একেবারে শেষ পর্যন্ত টেনে খাওয়া ইত্যাদি। যা হোক, ক্যান্সার চিকিৎসায় আমাদের দেশের প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা দেশ থেকে চলে যাচ্ছে। ক্যান্সারের নতুন ওষুধ উদ্ভাবনের ফলে এখন আর রোগীদের বিদেশে পাড়ি জমানোর প্রয়োজন নেই। দেশে থেকেই ফুসফুসের ক্যান্সারের যুগান্তকারী ওষুধ ও চিকিৎসা পাওয়া সম্ভব। সিঙ্গাপুর ন্যাশনাল ক্যান্সার সেন্টারের পরিচালক অধ্যাপক সুখি চিত্ত আশা প্রকাশ করেছেন, এখন ফুসফুসের ক্যান্সারে আক্রান্ত রোগীদের আর সিঙ্গাপুর-ব্যাংককে দৌড়াদৌড়ি করার প্রয়োজন ফুরিয়ে এসেছে।
লেখক : বক্ষব্যাধি বিশেষজ্ঞ ও ক্যান্সার গবেষক, ৮৫, ওয়ারলেস মোড়, বড় মগবাজার, ঢাকা
মোবাইল : ০১৭৪৫৯১৯৬৬৪

আরো অনেকে খুজেছে

    টেক্সোটিয়ার;