Click This Advertisement

Friday, December 2, 2016

শ্বেতী রোগ – এটা কোন ছোয়াচে রোগ নয়, কোন অভিশাপও নয়-Sbeti disease - choyace it is not a disease, not a curse

শ্বেতী রোগীদের বিড়ম্বনা

অথচ এটা কোন ছোয়াচে রোগ নয়, কোন অভিশাপও নয়

দেশের খ্যাতিমান চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক এমইউ কবীর চৌধুরীর নেতৃত্বে ন্যাশনাল ভিটিলাইগো এন্ড সোরিয়াসিস ভাউন্ডেশন অব বাংলাদেশ গড়ে তোলা হয়েছে। কিছু নিবেদিত চিকিত্সক ও সমাজকর্মী এ অলাভজনক সেবামূলক প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আছেন। আমিও একজন সামান্য কর্মী হিসাবে প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে আছি। যদিও আমরা এ বছরের প্রথম দিকে প্রতিষ্ঠানটি গড়ে তুলেছি। এখনও ব্যাপক কার্যক্রম হাতে নিতে পারিনি। দেশের অন্তত:১৫ থেকে ২০ লক্ষ ভিটিলাইগো বা শ্বেতী রোগী রয়েছে। এদের মধ্যে তরুণী-মহিলাদের শ্বেতী নামক এ সমস্যাটি হলে যে কি ধরণের বিড়ম্বনায় পড়তে হয় তা কেবল ভূক্তভোগী ও তাদের পরিবারের সদস্যরাই জানেন। যদিও শ্বেতী কোন ছোয়াচে রোগ নয়, কোন অভিশাপের বা পাপের ফসলও নয়। যদিও এ ধরণের কুসংস্কার কম নয়। যেহেতু আমরা ভিটিলাইগো রোগীদের সঙ্গে কাজ করছি সে কারণে অনেকে নানা প্রশ্ন করেন। জানতে চান নানা তথ্য। আমি এক্ষেত্রে তিনটি ঘটনার বিবরণ দেবো। এতে শ্বেতী সমস্যার বিড়ম্বনা সম্পর্কে একটা ধারণা পাওয়া যাবে।
এক: অতি সম্প্রতি দেশের একজন স্বনামধন্য গবেষক, শিক্ষাদ্যোক্তা যিনি স্বাস্থ্য সেক্টরে অভাবনীয় সাফল্য অজর্ন করেছেন এমন একজন গুণী ও কৃতি মহিলার কাছে গিয়েছিলাম। তিনি আমার কাছে জাতীয় শ্বেতী ফাউন্ডেশন গঠনের উদ্দেশ্য জেনে বেশ খুশী হলেন এবং উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করলেন ঠিকই কিন্তু তার উত্কণ্ঠাটা রয়ে গেলো আসলে শ্বেতী রোগীদের কোন কাংখিত চিকিত্সা দেয়া সম্ভব কিনা। এক পর্যায়ে এই বিশিষ্ট নারী উদ্যোক্তা ও গবেষক শোনালেন একটা বেদনাদায়ক কথা। তিনি একটি স্বনামধন্য বিউটি পারলারে গিয়ে থাকেন। সঙ্গে থাকে সহকর্মী মহিলা। তার সহকর্মী পেডিকিউর করাবেন। এমন সময় বিউটি পারলারের বিউটিশিয়ানদের নজরে পড়ে নারী উদ্যোক্তার সহকর্মীর পায়ে সাদা দাগ। বিউটিশিয়ানরা একে একে সবাই বেকে বসলেন সাদা দাগ ওয়ালা ভদ্রমহিলার পায়ে যত্ন বা পেডিকিওর করবেন না। অবশ্য একজন মাঝারী বয়স্ক ও অভিজ্ঞ মহিলা এগিয়ে এলেন।
দুই: সপ্তাহ খানেক আগে এক ভদ্র মহিলা ফোন করলেন। বললেন, ডাক্তার সাহেব আপনিতো ইত্তেফাকে প্রতিদিন নানা বিষয়ে হেলথ টিপস লেখেন। হেলথ টিপসের তিনি একজন পাঠক ইত্যাদি ইত্যাদি। হেলথ টিপসের অনেক পাঠকই আমাকে ফোন করেন। এটা নতুন কিছু নয়। তবে এই ভদ্র মহিলার ফোনের বিষয়টি ছিলো খানিকটা ব্যতিক্রম। মহিলা জানতে চাইলেন তার ছেলে একটা মেয়েকে পছন্দ করে। ওদের সঙ্গে দীর্ঘ দিনের জানাশোনা। এখন তার ছেলে ঐ পছন্দের মেয়েটিকে বিয়ে করতে চায়। কিন্তু মেয়েটির মা ও খালার শরীরে সাদা দাগ আছে। এখন ছেলের পছন্দকরা মেয়েটিকে ভবিষ্যতে শ্বেতী হবার সম্ভাবনা আছে কিনা। যদি তার হবু পুত্র বধুর শ্বেতী হবার সম্ভাবনা থাকে তবে ছেলের সঙ্গে ঐ মেয়েটির বিয়ে তিনি দেবেন না। একজন চর্মরোগ ও শ্বেতী বিশেষজ্ঞ হিসেবে বৈজ্ঞানিকভাবে যে উত্তরটা দেয়া প্রয়োজন তাই দিলাম। মহিলা হয়তো সাময়িকভাবে খুশী হলেন। কিন্তু তার উত্কণ্ঠা কমাতে পারলামনা। তিনি যদি নেগেটিভ উত্তর পেতেন তা হলে বিয়েটা ভেঙ্গে যেতো। ছেলের পছন্দ, দীর্ঘ দিনে সম্পর্ক এখানে কোন কাজেই আসতো না।
তিন: সচিব পদমর্যাদার এক কর্মকর্তা অবসরে গেছেন। আমার চেম্বারে এসে বললেন, বাবা আমাকে বাচান। আমার ছেলের বিয়ে সামনে। সচিব সাহেবের কপালে হালকা একটা সাদা স্পট (হেয়ার লাইন বরাবর)। সচিব সাহেবের আশংকা পাত্রী পক্ষ তার কপালের এই সামান্য সাদা দাগ দেখলে বিয়ে ভেঙ্গে যাবে। যদিও (হেয়ার লাইনের এই সামান্য দাগ) স্পট বা হাইপো পিগমেন্টেটড দাগ চুল না উঠালে দেখা যায়না।
উপরের তিনটি ঘটনা থেকে আমাদের দেশে শ্বেতী রোগীদের বিড়ম্বনার সামান্য চিত্র পাওয়া যাবে। আমরা বহুবার বলেছি শ্বেতী কোন ছোয়াচে রোগ নয়, কোন ক্ষতিকরও নয়। দেশের মানুষকে এ সহজ কথাটি বুঝাতে পারলে এবং শ্বেতী রোগীদের জন্য উন্নত চিকিত্সার ব্যবস্থা করা গেলে দেশের হাজার হাজার শ্বেতী রোগী বিশেষ করে মহিলাগণ বিড়ম্বনার হাত থেকে রক্ষা পেতে পারেন।
ডা: মোড়ল নজরুলইসলাম, চুলপড়া, চর্মরোগ ও এলার্জি এবং যৌন সমস্যা বিশেষজ্ঞ
লেজার এন্ড কসমেটিক সার্জন
বাংলাদেশ লেজার স্কিন সেন্টার
বাড়ী-৩৯ (আম্বালা কমপ্লেক্স)
রোড-২ ধানমন্ডি, ঢাকা।

আরো অনেকে খুজেছে

    শেতী রোগ; শ্বেতী রোগ কি ছোঁযাছে; ছোয়াচে রোগ কি?; ছোয়াচে রোগ কোন গুলো; লিঙ্গে শেতি রোগ; শেতী রোগ কেন হয়; সেতি রোগ কি মানুষের লিঙ্গে হয়;

নারীস্বাস্থ্য সমস্যা – জন্মনিয়ন্ত্রণের বড়ি-Narisbasthya problem - birth control pills

নারীস্বাস্থ্য সমস্যা – জন্মনিয়ন্ত্রণের বড়ি

সমস্যাঃ আমার বয়স ২৭ বছর। বিয়ে হয়েছে সাড়ে চার বছর। আড়াই বছরের একটি সন্তান রয়েছে। জন্মনিয়ন্ত্রণের বড়ি খেলে খুব সমস্যা হতো বলে আমি ২০০৮ সালের জানুয়ারি থেকে অক্টোবর পর্যন্ত তিন মাস অন্তর চারটি জন্মবিরতির ইনজেকশন নিই। এর পর থেকে আমার স্বামী প্রতিরোধক নিচ্ছেন। সমস্যা হচ্ছে, ইনজেকশন নেওয়া শুরু করার পর থেকে আমার পিরিয়ড বন্ধ আছে। এ বিষয়ে এক মাস আগে চিকিৎসককে দেখালে তিনি এটাকে ইনজেকশনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বলেন এবং আমাকে কোনো ওষুধ না দিয়ে আরও অপেক্ষা করতে বলেন। উল্লেখ্য, আগে কখনো আমার পিরিয়ড-সংক্রান্ত কোনো সমস্যা ছিল না। আমার ছেলে নিয়মিত বুকের দুধ পান করে। মাঝেমধ্যে কোমরে হালকা ব্যথা ছাড়া তেমন কোনো সমস্যা নেই। তবে দীর্ঘ ১৬ মাস পিরিয়ড না হওয়ায় আমি দুশ্চিন্তায় আছি এবং মনে হচ্ছে এতে আমার ওজন বাড়ছে। এ প্রসঙ্গে পরামর্শ দিলে কৃতজ্ঞ থাকব।
পরামর্শঃ জন্মবিরতির ইনজেকশন নিলে এ রকম হতে পারে। এ ক্ষেত্রে অপেক্ষা করাই চিকিৎসা। যেহেতু বেশ কয়েক মাস অতিক্রান্ত হয়েছে এবং আপনি উদ্বেগের মধ্যে আছেন, তাই মাসিক হয়ে যাওয়া প্রয়োজন। আপনি ট্যাবলেট নরমেনস একটি করে তিনবার পাঁচ দিন খাবেন। পরবর্তী এক সপ্তাহের মধ্যে আশা করি মাসিক হয়ে যাবে। ওজন যাতে না বাড়ে সেদিকে খেয়াল রাখুন।
পরামর্শ দিয়েছেন
রওশন আরা খানম
স্ত্রীরোগ ও প্রসূতিবিদ্যা বিশেষজ্ঞ
সহকারী অধ্যাপক, বেগম খালেদা জিয়া মেডিকেল
কলেজ ও সোহরাওয়ার্দী হাসপাতাল, ঢাকা।
সূত্র: দৈনিক প্রথম আলো, আগস্ট ১২, ২০০৯

আরো অনেকে খুজেছে

    নরমেনস; how to pregnancy bengali; নরমেন্স পার্শ্বপতিক্রিয়া; নরমেনস বড়ি; নরমেনস পিল com; নরমেনস ট্যাবলেট; নরমেনস খেলে কি হয়; নরমেনস কি কাজে; নরমেনস কি; নরমেনস ঔষধ; নরমেনস এর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া; ট্যাবলেট নরমেনস; সেক সের পবলেম;

জন্ডিসের প্রধান লক্ষণগুলো-The main symptoms of jaundice

অনেককেই বলতে শোনা যায় ‘জন্ডিস রোগ’। আসলে জন্ডিস কিন্তু কোনো রোগ নয়। এটি রোগের মধ্যে পড়ে না। জন্ডিস রোগের লক্ষণ মাত্র। আমাদের রক্তে বিলিরুবিনের(bilirubin, bil-ih-ROO-bin) মাত্রা বেড়ে গেলে জন্ডিস দেখা দেয়।

জন্ডিসের প্রধান লক্ষণগুলো

লিভারের স্বাভাবিক কর্মকাণ্ড বাঁধাপ্রাপ্ত হলে লিভারের প্রদাহ শুরু হয়। হেপাটাইটিস এ, বি, সি, ডি এবং ই ভাইরাসগুলো লিভারে প্রদাহ সৃষ্টি করে যাকে বলা হয় ভাইরাল হেপাটাইটিস। আমাদের দেশসহ সারা বিশ্বেই জন্ডিসের প্রধান কারণ এই হেপাটাইটিস ভাইরাসগুলো। এছাড়াও লিভার সংক্রান্ত রোগ এবং বংশগত কারণসহ আরও কিছু লিভারের রোগেও জন্ডিস হতে পারে। অনেক সময় ওষুধের পার্শ্ব প্রতিক্রিয়ার কারনেও জন্ডিস হয়। মাঝে মাঝে রক্তের নানা সমস্যা, পিত্তনালীর পাথর বা টিউমার এবং লিভার বা অন্য কোথাও ক্যান্সার হলেও জন্ডিস হতে পারে। তাই জন্ডিস মানেই লিভারের রোগ এমনটি ভাবা ঠিক নয়।
জন্ডিসের লক্ষণ নিয়ে আমাদের সচেতন থাকা উচিত। যখনই জন্ডিসের লক্ষণ নজরে পড়বে অবহেলা না করে যতো দ্রুত সম্ভব ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে হবে। কারণ চিকিৎসায় দেরি হলে বা অবহেলা করলে যে রোগের লক্ষণ হিসেবে জন্ডিস হয়েছে তা মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে। চলুন তবে আজকে চিনে নেয়া যাক জন্ডিসের লক্ষণগুলোকে।
১) জন্ডিসের প্রথম ও প্রধান লক্ষণ হলো চোখ হলুদ হয়ে যাওয়া। চোখের সাদা অংশ, হাত-পা এর তালু, মুখমন্ডল থেকে শুরু করে সমস্ত শরীরই হলুদ বর্ণের হয়ে যেতে পারে।
২) শরীর অনেক বেশি দুর্বল হয়ে পরা
৩) বমি বমি ভাব, এবং খাবার দেখলে ও খাবারের গন্ধ পেলে গা গুলিয়ে উঠা
৪) শরীরের বিভিন্ন অঙ্গে চুলকানি বৃদ্ধি পাওয়া
৫) পায়খানার রঙ ফ্যাকাসে হয়ে যাওয়া
এইসকল লক্ষণগুলো দেখা দিলে দেরি না করে অবশ্যই একজন লিভার বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেয়া উচিত। বিশেষজ্ঞ শারীরিক লক্ষণ এবং রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে জন্ডিসের তীব্রতা ও কারণ নির্ণয় করে চিকিৎসার ব্যবস্থা গ্রহন করতে পারেন।

আরো অনেকে খুজেছে

    জনডিস; জন্ডিসের লক্ষণ; jaundice bangla; জন্ডিস এর লক্ষণ; জন্ডিস রোগের লক্ষন; জনডিস কেন হয়; জন্দিস; জন্ডিসের লক্ষণ সমূহ; জন্দিস এর লক্ষন; জনডিস হলে করনিয়; জন্টিস; jaundice treatment in bangla; জন্ডিস হলে করণীয়; জন্ডিস এর লক্ষন; জন্ডিসের লক্ষণ কি কি; জনটিস; jondis bangla; jondice bangla; jaundice treatment bangla; জন্ডিসের লখ্খন; health tips of jaundice bengali language; জনিডস; জন্টিস এর লক্ষন; জনডিস হলে কি করতে হবে; জন্ডিস এর লক্ষণ গুলো; জন্ডিস এর লক্ষণগুলো কি; জন্ডিস রুগের লক্ষণ; জন্ডিস ভাল হউয়ার ল; জন্ডিস জ্বরের লক্ষণ সমূহ; জনডিস এর লকখন; জন্ডিস এর লখখন; জন্ডিস এর লখণ; জন্ডিস কি ভাবে হয়; জন্ডিস এর লখন; জন্ডিস এর লককন; জন্ডিস রোগের লক্ষন সমুহ; জ‌ন্ডি‌সের লক্ষণ; লিবার কি; লিবার টিপস; লিবার সমস্যা; লিবার সমস্যা কি বাভে বুঝবো; লিবার সমস্যা লখন; লিভার ও জন্ডিস এর লক্ষণ; লিভার জন্ডিস এর লককন; জন্দিস এর কারন; জন্ডীস চেনার উপায়; জন্ডিস হওয়ার লক্খন কি; জন্ডিস হলে করনীয়; জন্ডিস হলে কি করব; জন্ডিসে লখ্খন; জন্ডিসের প্রধান লক্ষণগুলো কি কি; জন্ডিসের লক্ষণ সমূহ ও প্রতিকার; জন্ডিসের লক্ষণসমুহ; জন্ডিসের লক্ষন সমুহ; লিভার রোগের লক্ষণ সমুহ ও চিকিৎসা; জন্ডিস এর কারন; জন্ডিজ রোগের লক্ষন কী?; Bangla trips jondis; bengali jhondis; Bilirubin কমার উপায়; jaundice in bangla; jaundice হওয়ার কারন ও প্রতিকার; medical tips জনডিস হলে করনিও; symptoms of jaundice in bengali; জনডিস রোগ নিরাময়; জনডিস রোগর লক্ষন; জনডিস রোগের; জনডিস রোগের লককন; জনডিস হওয়ার কারণ; জনডিস হলে কি হয়; জনদিস এর লখন সমূহ; জনিডস এর প্রতিকার; জনডিস রুগ কি; জনডিস এর লক্ষণ কী কী?; symptoms of jondis in bengali; www জন্ডিস এর লকণ com; www জন্ডিস হলে কি কি লকন com; কি কারনে জনডিস হয়; গেসটিক নিরাময়ের উপায়; জনটিস লখন; জনডিস এর প্রতিকার; জনডিস এর লক্ষণ

কাঁধে ব্যথা – পেরি-আর্থোসিস-Shoulder Pain - Perry-arthosisa

কাঁধে ব্যথার কারণ হতে পারে অনেক। যেমন- আঘাত পাওয়া, হাড় ভেঙে যাওয়া, পেশি টান, লিগামেন্ট ইনজুরি এবং কিছু কিছু রোগ যেমন- পেরি-আর্থোসিসবার্সাইটিস, বিভিন্ন ধরনের আর্থ্রাইটিস, গাউট ইত্যাদি। অনেক দিন পেরি-আর্থোসিসের ব্যথা থাকলে রোগী তার কাঁধ নড়াচড়া কম করেন। ফলে কাঁধ শক্ত হয়ে যেতে পারে। যাদের ডায়াবেটিস থাকে তাদেরই বেশি দেখা যায় এ রোগটি।
এ রোগকে জমাট কাঁধ বা ফ্রজেন শোল্ডার নামে অভিহিত করা হয়। অনেক ক্ষেত্রে এ রোগকে অ্যাডহেসিভ ক্যাপসুলাইটিস নামেও অভিহিত করা হয়। অনেক সময় হার্ট ডিজিজের পর বা স্ট্রোকের পর কাঁধ শক্ত হয়ে যেতে পারে। সাধারণত মহিলাদের চেয়ে পুরুষেরা এ রোগে বেশি আক্রান্ত হয়ে থাকেন। এ রোগে একবার আক্রান্ত হলে তা তিন মাস থেকে দুই বছর পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। তবে সঠিক চিকিৎসা করলে রোগটি সম্পূর্ণ ভালো হয়ে যায়।

কাঁধে ব্যথার উপসর্গ

– কাঁধের অস্থির সংযোগস্থলে ব্যথা হয় এবং কোনো কাজ করতে গেলে এ ব্যথা প্রচণ্ড আকার ধারণ করে। শীতের সময় ব্যথাটা বেশি অনুভূত হয়।
– কাঁধের অস্থি সংযোগ জমাট হওয়ার কারণে হাত নাড়াচাড়া করতে অসুবিধা হয়।
– কাঁধের অস্থি সংযোগস্থলের ব্যথা রাতের বেলায় বেড়ে যায় এবং কখনো কখনো ব্যথার কারণে ঘুম ভেঙে যায়।
– প্রাত্যহিক কাজ যেমন- চুল আঁচড়ানো, জামা গায়ে দেয়া, বাথরুমে পানি ব্যবহার করা, পিঠ চুলকানো ইত্যাদি কাজ করা কষ্টকর হয়ে যায়। কখনো কখনো এ কাজগুলো করা রোগীর পক্ষে অসম্ভব হয়ে যায়।

কাঁধে ব্যথার চিকিৎসা

ওষুধ : ব্যথা উপশমকারী ওষুধ যেমন- প্যারাসিটামল বা এনএসএআইডি এবং ব্যথা থাকা অবস্থায় মাংসপেশি শিথিলকারক ওষুধ যেমন ডায়াজিপাম খাওয়া যেতে পারে। সব ক্ষেত্রে একমাত্র চিকিৎসকের পরামর্শ মোতাবেক নির্দিষ্ট মাত্রায় সঠিক নিয়মে ওষুধ খেতে হবে।
ফিজিক্যাল থেরাপি : বিভিন্ন প্রকার তাপ এ রোগে চিকিৎসকেরা প্রয়োগ করে থাকেন। যেমন- ডিপ হিট, সুপারফিসিয়াল হিট, আল্ট্রাসাউন্ড থেরাপি এবং ক্ষেত্র বিশেষে ইলেকট্রোথেরাপি।
থেরাপিউটিক এক্সারসাইজ (ব্যায়াম) : জমাট কাঁধ রোগে বিভিন্ন প্রকার থেরাপিউটিক এক্সারসাইজ করা একান্ত প্রয়োজন। তবে নিজের খুশিমতো ব্যায়াম না করাই ভালো। কারণ, একজন ফিজিক্যাল মেডিসিন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক এসব থেরাপিউটিক এক্সারসাইজের মাত্রা ও ধরন রোগের অবস্থা অনুযায়ী নির্ধারণ করে দেন। সাধারণত যেসব ব্যায়াম দেয়া হয় তা হলো- কডম্যান এক্সারসাইজ, ওয়ালকাইমবিং এক্সারসাইজ, পুলি এক্সারসাইজ ইত্যাদি।
ইনজেকশন : জমাট কাঁধ রোগে অস্থিসংযোগের স্থানে স্টেরয়েড ইনজেকশন রোগীর অবস্থা অনুযায়ী প্রয়োগ করা হয়। অবশ্যই একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের মাধ্যমে এ ওষুধ প্রয়োগ করা উচিত। ডায়াবেটিক রোগীদের ক্ষেত্রে এ জাতীয় ওষুধ প্রয়োগ করা উচিত। ডায়াবেটিক রোগীদের ক্ষেত্রে এ জাতীয় ওষুধ প্রয়োগে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করা প্রয়োজন।

জমাট কাঁধ রোগীর জন্য পরামর্শ

* অল্প গরম পানিতে তোয়ালে ভিজিয়ে আক্রান্ত স্থানে সেঁক দেবেন।
* শোয়ার সময় ঘাড়ে ছোট নরম একটা বালিশ ব্যবহার করবেন।
* জমাট কাঁধের দিকে ভর করে ঘুমাবেন না।
* ভারী কোনো জিনিস যেমন- বেশি ওজনের বাজারের থলি, এক বালতি পানি, ছোট ছেলেমেয়ে কোলে নেয়া ইত্যাদি কাজ করবেন না।
* টিউবওয়েল চেপে পানি উঠাবেন না।
* ব্যথা বেশি থাকা অবস্থায় ব্যায়াম করবেন না।
* কোনো প্রকার মালিশ ব্যবহার করবেন না।
* ডায়াবেটিস রোগ থাকলে অবশ্যই তা নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে।
লেখক :
ডা: এম এ শাকুর
বাতব্যথা বিশেষজ্ঞ, ইবনে সিনা পেইন, ফিজিওথেরাপি অ্যান্ড রিহেবিলিটেশন সেন্টার, বাড়ি নং-৪৮, রোড নং-৯/এ, ধানমন্ডি, ঢাকা।
ফোন : ৯১২৬৬২৫-৬ (চেম্বার), ০১৮১৯-৪১০০৮০

আরো অনেকে খুজেছে

    কাঁধে ব্যাথা; কাঁধে ব্যথা; দাঁতের ব্যাথা উপশমকারী; ফ্রজেন শোল্ডার;

ফুসফুসের ক্যান্সার-Lung cancer

বিশ্বজুড়ে পুরুষের মধ্যে ফুসফুসের ক্যান্সার এবং মহিলাদের মধ্যে স্তন ক্যান্সারের প্রাধান্য লক্ষ করা যাচ্ছে। আমাদের দেশের অবস্থাও অনুরূপ। ব্যাপক ও অবাধ ধূমপান, খাবারের মেনুতে চর্বিযুক্ত খাবারের আধিক্যের জন্য এবং সর্বোপরি স্বাস্থ্যজ্ঞান সম্বন্ধে অসচেতনতার জন্য এই দু’টি রোগ বেড়ে যাচ্ছে। ফুসফুসের ক্যান্সার এবং এর চিকিৎসার অগ্রগতির ব্যাপারে সম্যক জ্ঞান লাভের নেশায় সিঙ্গাপুর ন্যাশনাল ক্যান্সার সেন্টারের আমন্ত্রণে দুই সপ্তাহের জন্য সেখানে অবস্থান করি। ক্যান্সার একটি মারাত্মক জটিল ব্যাধি। জটিলতা ও ভয়াবহতার দিক থেকে এইডসের পরেই ক্যান্সারের স্থান। ক্যান্সার হলো শরীরের কোষকলার অস্বাভাবিক বৃদ্ধি ও বিকৃতি। বিজ্ঞানীরা চিকিৎসাবিজ্ঞানে অনেক দূর অগ্রসর হওয়ার দাবি করলেও আজ পর্যন্ত ক্যান্সারের যথাযোগ্য প্রতিষেধক উদ্ভাবন করতে পারেননি। আসলে চিকিৎসাবিজ্ঞানীরা যে সফলতা এত দিন অর্জন করেছেন তার বেশির ভাগই জীবাণুঘটিত রোগের ক্ষেত্রে। অ্যান্টিবায়োটিকের কল্যাণে যক্ষ্মাসহ যেকোনো জীবাণুঘটিত রোগের নিরাময় মানুষের কাছে এখন খোলামেলা ব্যাপার। কিন্তু যে রোগের জীবাণুই নেই, সেখানে করার কী আছে? এখানেই এত দিন চিকিৎসাবিজ্ঞানীরা ছিলেন নিরুপায়।

ফুসফুসের ক্যান্সার

সিঙ্গাপুরের ক্যান্সার সেন্টারে কাজ করে মনে হয়েছে, ফুসফুসের ক্যান্সার চিকিৎসার নাটকীয় সাফল্য অর্জিত হতে যাচ্ছে।
অনেক ধরনের হয়ে থাকে। তবে আজকাল চিকিৎসার সুবিধার জন্য ফুসফুসের ক্যান্সারকে আমরা দুই ভাগ করে থাকি। স্মল সেল লাং ক্যান্সার ও ননস্মল লাং ক্যান্সার এ দুইভাগে ভাগ করে নিয়েছি আমরা। স্মলসেল লাং ক্যান্সার চিকিৎসার খরচ বেশ কম। ক্যাম্পটো নামে ওষুধটি প্রয়োগ করে এর চিকিৎসায় বেশ ভালো ফল পাচ্ছি। আর ননস্মল সেল লাং ক্যান্সার চিকিৎসায় বর্তমানে ব্যবহার করা হচ্ছে টেক্সোটিয়ার নামে ওষুধটি। তবে এটি মোটামুটি ব্যয়বহুল চিকিৎসা। টেক্সোটিয়ার আর সিসপ্লাটিনের মিলিত ব্যবহার নন স্মলসেল লাং ক্যান্সার চিকিৎসায় ব্যাপক সাফল্য বয়ে নিয়ে এসেছে। টেক্সোটিয়ার এই শতাব্দীতে ফুসফুসের ক্যান্সার চিকিৎসায় একটি বিস্ময়কর অবদান রাখবে বলে আশা করা যায়। বর্তমানে ক্যান্সার নিরাময়ে কেমোথেরাপি ও বিকিরণ চিকিৎসার প্রচলন রয়েছে। এই ধারার চিকিৎসায় রোগীর খারাপ কোষের সাথে সাথে ভালো কোষও মরে যায়; কিন্তু নতুন চিকিৎসায় শুধু ক্যান্সারসংক্রান্ত টিসুই লক্ষ্যবস্তু হবে। অর্থাৎ কেবল খারাপ কোষই মারা পড়বে, ভালো কোষের কোনো ক্ষতি হবে না। এই চিকিৎসায় পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া অনেক কম এবং এতই সম্ভাবনাময় যে, ক্যান্সার হয়তো অদূর ভবিষ্যতে জীবাণুঘটিত রোগের মতো চিকিৎসাযোগ্য হয়ে উঠবে।
ট্যাক্সোটিয়ার নামে ওষুধটি ফুসফুসের ক্যান্সারের প্রথম ও দ্বিতীয়পর্যায়ের চিকিৎসা হিসেবে প্রচলিত চিকিৎসার চেয়ে অনেক বেশি কার্যকর। মানুষ যে দ্রুত অগ্রসর হচ্ছে, এই উদ্ভাবন আবিষ্কারগুলো তারই জ্বলন্ত প্রমাণ। তবে ফুসফুসের ক্যান্সার যাতে না হতে পারে তার দিকেই বেশি খেয়াল রাখতে হবে। ফুসফুসের ক্যান্সার একটি প্রতিরোধযোগ্য ব্যাধি। কারণ ধূমপান পরিহার করলে ফুসফুসে ক্যান্সার হওয়ার ঝুঁকি অনেক কমে যায়। যে যত বেশি মাত্রায় এবং বেশি দিন ধরে ধূমপান করবেন তার এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কাও তত বেশি হবে। ধূমপানের মধ্যেও আবার কিছু ব্যাপার রয়েছে, যা এই রোগের আশঙ্কাকে বাড়িয়ে দেয়। যেমন সিগারেটের ধোঁয়া নিঃশ্বাসের সাথে ভেতরে দেয়া, একটি সিগারেটকে হাতের আঙুলের ফাঁকে না রেখে ঠোঁটের মধ্যে রেখে নিঃশ্বাস গ্রহণ করা, নেভানো সিগারেট আবার জ্বালিয়ে খাওয়া এবং সিগারেট খেতে খেতে একেবারে শেষ পর্যন্ত টেনে খাওয়া ইত্যাদি। যা হোক, ক্যান্সার চিকিৎসায় আমাদের দেশের প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা দেশ থেকে চলে যাচ্ছে। ক্যান্সারের নতুন ওষুধ উদ্ভাবনের ফলে এখন আর রোগীদের বিদেশে পাড়ি জমানোর প্রয়োজন নেই। দেশে থেকেই ফুসফুসের ক্যান্সারের যুগান্তকারী ওষুধ ও চিকিৎসা পাওয়া সম্ভব। সিঙ্গাপুর ন্যাশনাল ক্যান্সার সেন্টারের পরিচালক অধ্যাপক সুখি চিত্ত আশা প্রকাশ করেছেন, এখন ফুসফুসের ক্যান্সারে আক্রান্ত রোগীদের আর সিঙ্গাপুর-ব্যাংককে দৌড়াদৌড়ি করার প্রয়োজন ফুরিয়ে এসেছে।
লেখক : বক্ষব্যাধি বিশেষজ্ঞ ও ক্যান্সার গবেষক, ৮৫, ওয়ারলেস মোড়, বড় মগবাজার, ঢাকা
মোবাইল : ০১৭৪৫৯১৯৬৬৪

আরো অনেকে খুজেছে

    টেক্সোটিয়ার;

কলোরেকটাল ক্যান্সার-Kalorekatala Cancer

কলোরেকটাল ক্যান্সার এর চিকিত্সা এখন আধুনিক চিকিত্সা প্রযুক্তির মাধ্যমে নিরাময় করা সম্ভব।

কলোরেকটাল ক্যান্সার কোথায় হয়?

খাদ্য নালীর নিচের অংশ যেখানে মল বায়ু ও মলমিশ্রিত পানি থাকে। সেই অংশ-গুলোর যেমন বিশেষ করে সিকাম, কোলন, রেকটাম ও পায়ু পথের ক্যান্সারকে বুঝায়।

কলোরেকটাল ক্যান্সার রোগে আক্রান্তের পরিমান কেমন?

বাংলাদেশে এই রোগে আক্রান্তের সঠিক পরিসংখ্যান এখনো জানা নেই। তবে উন্নত বিশ্বে ক্যান্সারের মাধ্যমে এই রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা অনেক এবং ক্যান্সার রোগীর মধ্যে এর অবস্থান তৃতীয় স্থানে। আমাদের দেশেও এই রোগের সংখ্যা ধীরে ধীরে বাড়ছে।


কলোরেকটাল ক্যান্সার রোগের কারণগুলি কি কি?

১. খাদ্যভাস পরিবর্তন
২. জেনিটিক বা পারিবারিক কারণ
৩. ব্যাকটেরিয়া বা জীবানু
৪. এডিনোমা বা পলিপ
৫. ইনফ্লেমটরী বাওয়াল ডিজিজ
৬. বাই এসিড রস ইত্যাদি

খাদ্যাভ্যাস কিভাবে কলোরেকটাল ক্যান্সারের জন্য দায়ী

পরীক্ষা নিরীক্ষায় প্রমাণিত হয়েছে যে, শাক সবজি ও আঁশযুক্ত খাবার যেমন লাল আটা, ফল ফলাদি খাবারগুলো খেলে ক্যান্সার কম হয়। আবার মাংস, চর্বি জাতীয় খাবার, ফাস্ট ফুড, কম পানি খাওয়া ইত্যাদিতে অভ্যস্তদের ক্যান্সার রোগ বেশি হয়। অন্যান্য কারণগুলো যেমন- জেনিটিক বা পারিবারিকভাবে ও এই রোগে বংশধরার ভুগতে দেখা যায়। অর্থাত্ কোন কোন পরিবারে এই রোগে একাধিক ব্যক্তির মাঝে দেখা যায়।

কলোরেকটাল ক্যান্সার হলে কি কি উপস্বর্গ দেখা যায়

১. মলদ্ব্বারে রক্ত ক্ষরণ অর্থাত্ পায়খানার সাথে রক্ত যাওয়া রেশিরভাগ ক্ষেত্রে পাইলস বলে সন্দেহ করে চিকিত্সা করা হয়।
২. মলত্যাগের অভ্যাস পরিবর্তন।
যে রোগী পূর্বে স্বাভাবিক দৈনিক মলত্যাগ করত। এ রোগ হলে তার কনসটিপেশন বা পায়খানা ক্লিয়ার না হওয়া, অল্প পায়খানা হওয়া। আবার কখনো কখনো মিউকাস ডায়রিয়া দেখা যায়। বিশেষ করে সকাল বেল।
৩. পেটে ব্যাথা, বমি (ইনটেসটিনাল অবস্ট্রাকশন) ইত্যাদি ইর্মারজেন্সী উপস্বর্গ নিয়ে আসতে পারে।
৪. পেটে চাকা বা টিউমার নিয়ে ডাক্তারের কাছে আসতে পারে।
৫. দূর্বলতা, রক্তশূণ্যতা ও খাবারের অরুচি ইত্যাদি নিয়েও ডাক্তারের শরণাপন্ন হয়।
৬. খাদ্য নালীর বাহিরে এই রোগে অন্য জায়গায় ছড়িয়ে পড়তে পারে। যেমন- লিভার, ফুসফুস ও মস্তিষ্কে।

কলোরেকটাল ক্যান্সার রোগ নিরূপণ ও চিকিত্সা

কলোনোসকোপিও বেরিয়াম এনেমা পরীক্ষার মাধ্যমে সহজেই এই রোগ নিরুপন করা সম্ভব।

কলোরেকটাল ক্যান্সার চিকিত্সা

এই রোগের সার্জারীই একমাত্র চিকিত্সা। প্রাথমিক পর্যায়ে নির্ণয় হলে চিকিত্সার সফলতা অনেক বেশি। বর্তমানে মর্ডান সার্জারী চিকিত্সার মাধ্যমে কলোস্টমীবেগ (পেটের মধ্যে কৃত্রিম পায়খানা দরজা করে দেওয়া)। না লাগিয়ে স্বাভাবিকভাবে মলদ্বার দিয়ে মলত্যাগ করা সম্ভব।
অধ্যাপক ডাঃ এম.এ.হাসেম ভূঁঞা
অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান
সার্জারী বিভাগ
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল

আরো অনেকে খুজেছে

    colorecteral সাজর্ন কি; পাইলস এ নিষিদ্ধ খাবার; পায়খানার সাথে রক্ত যাওয়ার কারন; পায়ু পথের ক্যান্সার; বাংলাদেশি মেয়েদের বড় নগ্ন মলত্যাগের ছবি;

ইউরেথ্রাল স্ট্রিকচার – প্রস্রাব আটকে যাবার রোগ

মূত্রনালী সরু বা সংকীর্ণ হয়ে যাওয়াকে স্ট্রিকচার ইউরেথ্রা বলে। এটি অত্যন্ত প্রাচীন একটি রোগ। এই রোগের বর্ণনা প্রাচীন গ্রীক চিকিত্সা বিজ্ঞানে উল্লেখ দেখা যায়। ইউরেথ্রা বা প্রস্রাবের নালী পুরুষের ক্ষেত্রে ২৫ সেঃমিঃ এবং মহিলাদের ক্ষেত্রে ৪ সেঃমিঃ লম্বা হয়। এটি প্রস্রাবের থলি থেকে প্রস্রাব দেহের বাহিরে নিঃসরণ করে। এটি মোটামুটিভাবে ক্লিনিক্যালি দু’ভাগে বিভক্ত করা হয়। এন্টেরিয়র ইউরেথ্রা ও পোষ্টেরিয়ির ইউরেথ্রা। এন্টেরিয়র ইউরেথ্রা প্রস্রাবের নালীর মুখ, পেনাইল ইউরেথ্রা ও বালবার ইউরেথ্রা নিয়ে গঠিত। পোষ্টেরিয়র ইউরেথ্রা মেম্রেনাস ইউরেথ্রা ও প্রোষ্টেটিক ইউরেথ্রা নিয়ে গঠিত।
 
ইউরেথ্রা করপাস স্পনজিওসামের মধ্যে থাকে এর দু’পার্শ্বে আরও দ’টি অংশ আছে যাদেরকে বলা হয় করপাস ক্যাভারনসাম। ইউরেথ্রাতে সংক্রমণ, রক্ত চলাচলে স্বল্পতা বা আঘাত জনিত কারণে ইউরেথ্রা সরু হতে থাকে যা প্রস্রাব নির্গমণে বাধা সৃষ্টি করে। পোষ্টেরিয়র ইউরেথ্রাতে সাধারণত আঘাত জনিত কারণে স্ট্রিকচার হয়। ইউরেথ্রাল স্ট্রিকচার কারণগুলোর  মধ্যে রয়েছে আঘাত, সংক্রমণ, ক্যান্সার বা জন্মগত। সংক্রমণের মধ্যে গণোরিয়া উল্লেখযোগ্য। এই রোগী সাধারণত প্রথমদিকে ধীরে ধীরে অনেকক্ষণ ধরে চাপ দিয়ে প্রস্রাব করে থাকে। এদের প্রস্রাবে সংক্রমণও এক পর্যায়ে প্রস্রাব আটকে যেতে পারে। রোগীর উপসর্গ সমূহ মারাত্মক আকার ধারণ করলে, প্রস্রাবের থলিতে পাথর হলে, প্রস্রাব পরবর্তী মূত্রথলিতে অতিরিক্ত প্রস্রাব জমা থাকলে যখন ওষুধ প্রয়োগে নিরাময়ের সম্ভবনা থাকে না তখন শল্য চিকিত্সার প্রয়োজন হয়। যদি সংক্রমণ থাকে তবে তা শল্য চিকিত্সার পূর্বে চিকিত্সা করে নিতে হবে।
 
 
এই রোগ নির্ণয়ের জন্য রোগীর রোগের ইতিহাস, কিছু পরীক্ষা নিরীক্ষা যেমন ইরোফ্লোমিট্রি বা প্রস্রাবের ধারা পরীক্ষা, মূত্র নালীর বিশেষ ধরণের এক্স-রে যাকে বলা হয় RGU & MCU এবং প্রস্রাবের রাস্তার আল্ট্রাসাউন্ড পরীক্ষাপ্রয়োজন। এছাড়া সরাসরি যন্ত্রের মাধ্যমে দেখে এই রোগ নির্ণয় করা যায় একে বলা হয় ইউরোথ্রো সিসটোস কপি। শল্য চিকিত্সার মধ্যে রয়েছে ইউরেথ্রাল ডাইলেটেশন, ইন্টারনাল ইউরোথ্রোটমি, প্রাইমারী রিপেয়ার, রিপেয়ার উইথ টিস্যু ট্রান্সফার ও পারমানেন্ট স্টেন্ট। ইউরেথাল ডাইলেটেশন এর মধ্যে রয়েছে রিজিড ডাইলেটেশন ও সেলফ্ ডাইলেটেশন পদ্ধতি।
 

রিজিড ডাইলেটেশন ও সেলফ্ ডাইলেটেশন পদ্ধতি

রিজিড ডাইলেটেশনে অভিজ্ঞ চিকিত্সক বিশেষ ধরণের মেটালিক বুজি দিয়ে ইউরেথ্রার সরু অংশ মোটা করে দিয়ে থাকেন। এটি একটি নির্দিষ্ট সময় অন্তর অন্তর করতে হয়। অপটিক্যাল ইউরোথ্রটমি বা রিজিড ডাইলেটেশনের পর নিজে নিজে একটি পরিস্কার ক্যাথেটার দিয়ে প্রতিদিন প্রস্রাবের রাস্তায় প্রবেশ করানোকে সেলফ্ ডাইলেটেশন বলে। ইন্টারনাল উইরেথ্রোটমি বিশেষ যন্ত্রের সাহায্যে প্রস্রাবের নালীর ভিতর দিয়ে কেটে দেওয়া হয়। এরপর ৩-৫ দিন ক্যাথেটার দিয়ে রাখা হয়।
প্রাইমারী রিপেয়ারের ক্ষেত্রে চিকন হয়ে যাওয়া অংশ কেটে ফেলে দিয়ে জোড়া লাগানো হয়। সাধারণত সরু অংশ ১-২ সেঃমিঃ হলে ভাল হয়। তবে বিশেষ পদ্ধতিতে ৩-৪ সেঃমিঃ পর্যন্ত করা যায়। টিস্যু ট্রান্সফার পদ্ধতিতে সাধারণত অন্য স্থানের চামড়া নিয়ে সরু হয়ে যাওয়া অংশে লাগানো হয়। সাধারণত মুখ গহবরের ভিতরের চামড়া নিয়ে লাগালে ভাল ফল পাওয়া যায়। পারমানেন্ট ইউরেথ্রাল ষ্টেন্ট সাধারণত অপারেশনের অনুপযোগী রোগী যাদের বালবার ইউরেথ্রাতে স্বল্প দৈর্ঘ্য ষ্ট্রিকচার আছে তাদের ক্ষেত্রে বিবেচনা করা যেতে পারে। স্ট্রিকচার ইউরেথ্রা একটি বাজে  ধরণের রোগ। কেউ এই রোগে আক্রান্ত হলে পরিপূর্ণ নিস্কৃৃতি পাওয়া দুস্কর। বারে বারে এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভবনা থাকে।
 
ডাঃ মুহাম্মদ হোসেন
সহযোগী অধ্যাপক, ইউরোলজি বিভাগ
বঙ্গবন্ধু শেখমুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়
চেম্বার: ল্যাব এইড স্পেশালাইজড হসপিটাল, ধানমন্ডি, ঢাকা

আরো অনেকে খুজেছে

    ইউরেথ্রাল স্ট্রিকচার; ondokosh; ক্যাথেটার; ইউরেথ্রা;

বন্ধ্যত্ব কী? ছেলে না মেয়ে বেশি দায়ী?-What is fertility? Responsible boy or a girl?

সন্তানধারণের অক্ষমতা মানেই বন্ধ্যত্ব। কিন্তু বন্ধ্যত্বের বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা একটু ভিন্ন। যদি ১২ মাস ধরে যৌনসঙ্গমের পরও গর্ভসঞ্চার না ঘটে, তাহলে তাকে বন্ধ্যত্ব বলে। ১৫ শতাংশ নারী এ সমস্যায় ভোগেন। এ সমস্যার ৫০ শতাংশের জন্য নারী এবং ৩৫ শতাংশ পুরুষের সমস্যা দায়ী। তাই খুব সহজে বোঝা যায়, বন্ধ্যত্বের জন্য নারী একা নন, পুরুষও (স্বামী) দায়ী।

বন্ধ্যত্ব কী? ছেলে না মেয়ে বেশি দায়ী?

গর্ভধারণের বয়স : গর্ভধারণের ক্ষমতা বা উপযুক্ত সময় বয়সের ওপর নির্ভর করে। সাধারণত ২০ থেকে ৩০ বছর বয়সি নারী গর্ভধারণ করতে পারেন। ৩০ বছরের পর গর্ভধারণ ঝুঁকিপূর্ণ এবং বিপজ্জনক হতে পারে।
বন্ধ্যত্ব কারণ : নারীর (স্ত্রীর) ফ্যালোপিয়ান টিউব, গর্ভাশয় কিংবা ডিম্বাশয়ের সমস্যা হয়। গর্ভধারণ সময়ে অতিরিক্ত ওষুধ সেবনের কারণেও গর্ভস্থ কন্যা তার পরিণত বয়সে গর্ভধারণে অক্ষম হতে পারে। পুরুষের (স্বামীর) বীর্যে শুক্রাণুর স্বল্পতাও একটি বিশেষ কারণ।
বন্ধ্যত্ব রোগ নির্ণয় : নারীর ক্ষেত্রে মাসিকের ইতিহাস, হরমোন পরীক্ষা, গর্ভধারণ সংশ্লিষ্ট অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের আল্ট্রাসনোগ্রাফির মাধ্যমে ত্রুটি বের করতে হয়। পুরুষের ক্ষেত্রে বীর্যে শুক্রাণুর পরিমাণ নির্ধারণ পরীক্ষা করাতে হয়।
বন্ধ্যত্ব চিকিৎসা : ৩৫ বছরের নিচে কোনো নারীর স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় গর্ভসঞ্চার না হলে চিকিৎসকরা বিভিন্নভাবে চিকিৎসা দিয়ে থাকেন। যেমন ওষুধের মাধ্যমে ডিম্বাশয় থেকে ডিম্বাণুর সচলতা তৈরি করা। কৃত্রিম উপায়ে নারীর গর্ভাশয়ে শুক্রাণু স্থাপন।
ফ্যালোপিয়ান টিউবে কোনো সমস্যা থাকলে সার্জারির মাধ্যমে তা দূর করা। পুরুষের বীর্যে শুক্রাণুর সংখ্যা বৃদ্ধির চেষ্টা করা। এসব প্রক্রিয়ায় কাজ না হলে আইভিএফের (ইনভিট্রো ফার্টিলাইজেশন) কথা চিন্তা করতে পারেন। এ পদ্ধতিতে কৃত্রিম উপায়ে ডিম্বাণু ও শুক্রাণু একত্রে রেখে ডিম্বাণু নিষিক্ত করা হয়। নিষিক্ত ডিম্বাণু নারীর গর্ভাশয়ে স্থাপন করা হয়। তবে এ পদ্ধতি ব্যয়বহুল। তাই চিন্তা-ভাবনা করে এগোতে হবে।
দম্পতির করণীয় : প্রথমে জানা দরকার, মাসের কোন দিনগুলোয় স্ত্রীর সন্তান লাভের সম্ভাবনা বেশি। স্ত্রীর বিশ্রামের সময় দেহের উষ্ণতা অনুভব করে এ সময়টা আন্দাজ করা যায়। ডিম্বাণু পূর্ণতা পেয়ে ডিম্বাশয় থেকে মুক্ত হয়ে যখন গর্ভাশয়ে যায়, তখন নারীর শারীরিক তাপমাত্রা কম থাকে। আবার ২৪ ঘণ্টা পরই তাপমাত্রা বেড়ে যায়। তাই প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে জাগার পর দেহের তাপমাত্রা পরিমাপ করে একটি চার্ট তৈরি করে গর্ভসঞ্চারের সম্ভাব্য সময় নির্ধারণ করা যায়।
এ জন্য থার্মোমিটার ব্যবহার করা যেতে পারে। তাপমাত্রার তারতম্য বুঝে গর্ভসঞ্চারের সম্ভাব্য সময়ে যৌনমিলন ঘটলেই গর্ভধারণের সম্ভাবনা থাকে। মনে রাখতে হবে, সাধারণত ডিম্বাণুমুক্তির ৫ দিন আগে থেকে ডিম্বাণুমুক্তির দিন পর্যন্ত যৌনমিলনে গর্ভসঞ্চারের সম্ভাবনা বেশি থাকে। এছাড়া গর্ভসঞ্চারের সময় নির্ধারণ পদ্ধতি রয়েছে। সাধারণত নারীরা প্রতি মাসে পাঁচ দিন উর্বরা থাকে। এ সময়টি হলো, মাসিক শুরুর ১২ থেকে ১৬ দিন পর্যন্ত। যে নারীর মাসিক নিয়মিত, তাদের ঋতুচক্র ২৮ দিনে হয়। আর ডিম্বাণুমুক্ত হয় ঋতুচক্রের মাঝামাঝি সময়। এ হিসাব থেকেও গর্ভসঞ্চারের সম্ভাব্য সময় বের করা যায়।

আরো অনেকে খুজেছে

    Nari shastho tips bangla; সহবাসের গুন;

হেপাটাইটিস থেকে বাঁচুন-Refrain from hepatitis

যকৃত তথা লিভার মানবদেহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি অঙ্গ। মানুষের শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়ায় লিভার অত:প্রত ভাবে জড়িত। আমরা প্রতিদিন যা খাই তা হজম হয়ে রক্তে প্রবেশের আগে লিভারের মধ্য দিয়ে যেতে হয়। সে হিসেবে লিভারের কাজ অনেকটা পোর্টের মত। যা কিছু শরীরে প্রবেশ করছে তার ভাল মন্দ বাছাই করে ভালটা রাখা এবং মন্দটাকে অপসারণ করার কাজটি সমপাদন করে লিভার। এছাড়াও, লিভার রক্তে বিভিন্ন ধরণের গুরুত্বপূর্ণ প্রোটিন সিনথেসিস তথা সংশ্লেষ করে। উক্ত প্রোটিনগুলোর মাধ্যমে রক্তে বিভিন্ন পদার্থ পরিবহন, রক্ত জমাট বাঁধা, রক্তের তারল্য বজায় রাখার দায়িত্ব লিভার বহন করে। ভিটামিন এ, ই ও বি-১২ এর মত কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ভিটামিন সঞ্চয়ের কাজ করে লিভার। লিভার বিভিন্ন ওষুধকে ব্যবহার উপোযোগী করে ও বিষাক্ত পদার্থকে বিষমুক্ত করে শরীর থেকে বের করে দেয়। ফলে, লিভার রোগে আক্রান্ত হলে তা পুরো মানবশরীরে অত্যন্ত বিরুপ প্রভাব ফেলে।
কতগুলো ভাইরাস লিভারে স্বল্পমেয়াদী এবং কতগুলো ভাইরাস দীর্ঘমেয়াদী প্রদাহ সৃষ্টি করে। এই ভাইরাসগুলোকে বলা হয় হেপাটাইটিস ভাইরাস এবং সৃষ্ট রোগকে বলে হেপাটাইটিস। মানব লিভার প্রধানত পাঁচটি ভাইরাস দিয়ে আক্রান্ত হয়। ইংরেজী বর্ণমালার প্রথম পাঁচটি অক্ষর দিয়ে এদের নাম রাখা হয়েছে যথাক্রমে হেপাটাইটিস এ,বি,সি,ডি এবং ই। এর মধ্যে হেপাটাইটিস এ ও ই লিভারে স্বল্পমেয়াদী প্রদাহ করে এবং হেপাটাইটিস বি, সি ও ডি দীর্ঘমেয়াদী প্রদাহ করে।

হেপাটাইটিস থেকে বাঁচুন – Hepatitis Cure

বিশ্বে প্রতি বছর প্রায় ১৪ লক্ষ মানুষ হেপাটাইটিস রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যায়। হেপাটাইটিস বি দ্ব্বারা প্রতি বছর স্বল্পমেয়াদী প্রদাহে আক্রান্ত হয় প্রায় ৪০ লক্ষ মানুষ এবং প্রায় ৩৫ কোটি মানুষ দীর্ঘমেয়াদী প্রদাহে আক্রান্ত থাকে। সে হিসেবে সারা বিশ্বে প্রতি ১২ জনে একজন হেপাটাইটিস বি অথবা সি দ্ব্বারা আক্রান্ত। প্রতি বছর দীর্ঘমেয়াদে হেপাটাইটিস সি দ্ব্বারা আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা ১৭ কোটি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসেব অনুযায়ী মানুষের মৃত্যুর কারণের দিক দিয়ে হেপাটাইটিস বি আক্রান্ত সিরোসিসের অবস্থান দশম।
 উক্ত পরিসংখ্যানের আলোকে হেপাটাইটিস রোগের প্রাদূর্ভাব ও ভয়াবহতা বিবেচনা করে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থ্যা ২০১০ সাল থেকে প্রতি বছর ২৮ শে জুলাইকে বিশ্ব হেপাটাইটিস দিবস হিসেবে পালন করার ঘোষণা দিয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সাথে তাল মিলিয়ে ২৮ শে জুলাই বিশ্ব হেপাটাইটিস দিবস উপলক্ষ্যে হেপাটাইটিস সমপর্কে জনসচেতনতা তৈরীর লক্ষ্যে প্রতি বছর আমাদের দেশেও হেপাটলজি সোসাইটি বাংলাদেশসহ বিভিন্ন সংগঠন উক্ত দিবসটি পালন করে আসছে।
 মানব দেহের উপর হেপাটাইটিস রোগের প্রতিক্রিয়া
হেপাটাইটিস ভাইরাসগুলোকে সংক্রমণের মাধ্যমের ওপর ভিত্তি করে দু’ভাগে ভাগ করা হয়: এক, পানি ও খাদ্যবাহিত ভাইরাস- হেপাটাইটিস ‘এ’ এবং ‘ই’ এবং দুই, রক্ত কিংবা দূষিত সিরিঞ্জ-এর মাধ্যমে বাহিত ভাইরাস- হেপাটাইটিস ‘বি’, ‘সি’ এবং ‘ডি’।হেপাটাইটিস ‘এ’ এবং ‘ই’ ভাইরাস দ্বয় ছড়ায় দূষিত পানি এবং খাবারের মাধ্যমে। ফলে, রাস্তার ধারের খোলা খাবার, আঁঁখের রস, শরবত ও দূষিত খাবার এ ভাইরাসে আক্রান্ত করার জন্য দায়ী। এছাড়া, যারা শহরে বাস করেন কিন্তু পানি না ফুটিয়ে পান করেন কিংবা যারা গ্রামে গঞ্জে টিউবয়েলের পানির পরিবর্তে ডোবা-নালা-পুকুর থেকে খাবার পানি সংগ্রহ করেন তারাও হেপাটাইটিস ‘এ’ বা ‘ই’ তে আক্রান্ত হতে পারেন। 
 ভাইরাসদ্বয় পানি বা খাবারের মাধ্যমে মানুষের শরীরে প্রবেশের ১৫-৬০ দিন পর জণ্ডিস দেখা দেয়। আমরা জানি, ভাইরাস কোষের ভিতর প্রবেশ করে কোষের ভিতরের ডিএনএ ও বিভিন্ন এনজাইম ব্যবহার করে বংশবৃদ্ধি করে। হেপাটাইটিস ভাইরাস লিভারের কোষে আক্রমণ করে। লিভারের কোষ নষ্ট হলে বিলিরুবিন রক্তে প্রবেশ করে। ফলে, রক্তে বিলিরুবিন বেড়ে যায় এবং জণ্ডিস দেখা দেয়। এছাড়াও, লিভার আক্রান্ত হওয়ায় ক্ষুধামন্দা, বমি বমি ভাব, বমি, জ্বর, পেটের ডান দিকে পাজরের নিচে ব্যথা নানাবিধ সমস্যা দেখা দেয়। তবে, হেপাটাইটিস ‘এ’ এবং ‘ই’ ভাইরাস সবাইকে সমান মাত্রায় আক্রান্ত করে না। এ কারণে, রোগের লক্ষণের মাত্রায় ভিন্নতা দেখা যায়। ‘এ’ ভাইরাস সাধারণত শিশুদের বেশী আক্রমণ করে এবং প্রাপ্তবয়স্করা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই হয় ‘ই’ ভাইরাসের শিকার। ভাইরাসদ্ব্বয় দূষিত পানির মাধ্যমে ছড়ায় বিধায় বিভিন্ন এলাকায় বিভিন্ন সময় মহামারীর কারণ হয়ে দাঁড়ায়। বাংলাদেশে বন্যার সময় হেপাটাইটিসের মহামারীর জন্য দায়ী হেপাটাইটিস ‘ই’ ভাইরাস।  

হেপাটাইটিস ‘এ’ এবং ‘ই’-কে বলা হয় সেল্ফ লিমিটিং ডিজিজ। অর্থাত্, আমাদের শরীরের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এদেরকে শরীর থেকে দূর করার জন্য যথেষ্ট এবং বেশীর ভাগ ক্ষেত্রেই দুই থেকে ছয় সপ্তাহের মধ্যে আক্রান্ত ব্যক্তিদের জণ্ডিস আপনাআপনি সেরে যায়। সাধারণত হেপাটইটিস ‘এ’ এবং ‘ই’ মারাত্মক কোন সমস্যা সৃষ্টি করে না। তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে হেপাটিক ফেইলারের মত ভয়াবহ পরিণতি আনতে পারে। বিশেষ করে গর্ভবতী মহিলাদের হেপাটিক ফেইলার হওয়ার সম্ভাবনা বেশী থাকে। যদি জণ্ডিসে আক্রান্ত কোন রোগী অস্থিরতা, অস্বাভাবিক আচরণ করে বা অজ্ঞান হয়ে যায়, তখন বুঝে নিতে হবে যে তা জরুরী অবস্থা এবং কোন বিলম্ব না করে বিশেষজ্ঞ চিকিত্সকের স্মরণাপন্ন হতে হবে এবং হাসপাতালে ভর্তি করতে হবে।  
 হেপাটাইটিস ‘বি’ এবং ‘সি’ ভাইরাস মূলত রক্তের মাধ্যমে ছড়ায়। তবে, বাচ্চার কোমল ত্বকের সংস্পর্শে মা থেকে বাচ্চাতে, লালার মাধ্যমে, একই সিরিঞ্জ বারবার ব্যবহারের মধ্য দিয়ে এবং ঝুঁকিপূর্ণ যৌনমিলনের মাধ্যমেও ভাইরাস দুটি ছড়ায়। এছাড়াও, আকুপাংচার, মুসলমানী, নাক-কান ফুঁড়ানো, নাপিতের ক্ষুর ইত্যাদি ভাগাভাগি করে ব্যবহার করার মাধ্যমে এরা ছড়াতে পারে। আক্রান্ত মায়ের শিশু সন্তান, আক্রান্ত পরিবারের অন্যান্য সদস্য, বহুবার রক্তগ্রহনকারী রোগী, মাদকাসক্ত ব্যক্তি, মানসিক অবসাদগ্রস্থ ব্যক্তি, স্বাস্থ্য-সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান তথা হাসপাতালে কর্মরত ব্যক্তিবর্গ যেমন ডাক্তার, নার্স, ল্যাবরেটরীতে কর্মরত ব্যক্তিবর্গ, দন্তরোগের চিকিত্সকগণ এই ভাইরাসদ্ব্বয়ে আক্রান্ত হওয়ার জন্য অত্যধিক ঝুকিপূর্ণ।
 হেপাটাইটিস ‘বি’ এবং ‘সি’ ভাইরাস মানুষের শরীরে প্রবেশের পর এক থেকে ছয় মাস সুপ্তাবস্থায় থাকে। অত:পর, লিভার আক্রমণের বিভিন্ন লক্ষণ প্রকাশ পেতে পারে। সাধারণত ‘এ’ ও ‘ই’ ভাইরাসের মত জণ্ডিস এই ভাইরাস দুটি দিয়ে হয় না। মূলত দুর্বলতা, শরীর ম্যাজম্যাজ করা, ক্ষুধামন্দা, বুকের নিচে পেটের ডানদিকে অস্বস্তি ইত্যাদি লক্ষণ প্রকাশ পায়। কোন কোন রোগীর ক্ষেত্রে জণ্ডিস, জ্বর ইত্যাদি দেখা দিতে পারে। তবে, এই ভাইরাসদ্ব্বয় দীর্ঘদিন যাবত নিরবঘাতকের মত কাজ করে এবং এই সময়ে আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরে স্পষ্ট কোন লক্ষণ দেখা যায় না। কিন্তু, এ অবস্থায় অন্যান্য ব্যক্তির মধ্যে এই ভাইরাস ছড়াতে পারে। 
 ‘বি’ ও ‘সি’ ভাইরাস যখন লিভারে দীর্ঘমেয়াদী প্রদাহ সৃষ্টি করে, তখন মানবদেহের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এই ভাইরাসগুলোর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলে, তবে এই প্রতিরোধ হেপাটাইটিস ‘এ’ বা ‘ই’ ভাইরাসকে শরীর থেকে দূর করতে পারে কিন্তু হেপাটাইটিস ‘বি’ ও ‘সি’ (hepatitis c cure) -কে পুরোপুরি দূর করতে পারে না।  দীর্ঘদিন যাবত ‘বি’ অথবা ‘সি’ ভাইরাস ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার যে যুদ্ধ চলতে থাকে তার ফলে লিভারে ফাইব্রোজেনেসিস এবং নেক্রোসিস নামক বিশেষ প্রক্রিয়া শুরু হয় এবং পরিণামে তা লিভাব সিরোসিসের দিকে ধাবিত হয়। কারও কারও ক্ষেত্রে সিরোসিস থেকে হেপাটিক ফেইলিউর ও লিভার ক্যান্সার নামক মারাত্মক দশায় উপনীত হতে পারে।
 হেপাটাইটিস ‘বি’ ও ‘সি’ দীর্ঘ সময় ধরে ধীরে ধীরে আক্রমণ করে বিধায় আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরে প্রাথমিক পর্যায়ে এর কোন প্রভাব পড়েনা এবং  উক্ত ব্যক্তি স্বাভাবিক জীবন যাপন করতে পারে। তবে, রোগের লক্ষণ প্রকাশ পায় লিভার সিরোসিস হয়ে যাওয়ার পর। কাউকে রক্ত দিতে গিয়ে বা অন্য কোন অসুস্থতার কারণে রক্ত পরীক্ষা করে শরীরে হেপাইটাইটিস ‘বি’ বা ‘সি’-এর উপস্থিতি আবিষ্কার করা হয়। এসকল ক্ষেত্রে ঠিক মত চিকিত্সা গ্রহণ করলে লিভারের দীর্ঘ মেয়াদী প্রদাহ থেকে লিভার সিরোসিসে রূপান্তরকে প্রতিহত করা সম্ভব। কিন্তু,বিভিন্ন কারণে বাংলাদেশের মানুষের একটি বড় অংশ তাদের শরীরের এই ভয়ংকর ভাইরাসদ্বয়ের উপস্থিতি সম্পর্কে জানতে পারছে না এবং সঠিক চিকিত্সা গ্রহন করতে পারছে না।
 বাংলাদেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় হেপাটাইটিসের প্রভাব
হেপাইটাইটিস ভাইরাস জনিত লিভার রোগ প্রতিরোধ এবং প্রতিকার করা কতটা জরুরী তা বলার অপেক্ষা রাখেনা। এছাড়া লিভার সেন্টারের অভিজ্ঞতায় এটাও প্রতীয়মান হয়েছে যে লিভার রোগীদের একটি বড় অংশ তখনই বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ নিতে আসেন যখন তাদের রোগ অনেকদূর অগ্রসর হয়ে গিয়েছে। এর আগে তারা বিভিন্ন কবিরাজ,বৈদ্য,গ্রাম্যডাক্তারের সরণাপন্ন হয়ে ভুল চিকিত্সা নিতে থাকেন অথবা সাধারণ ডাক্তারের পরামর্শ গ্রহণ করে প্রাথমিক চিকিত্সা নিয়েই বসে থাকেন। কিন্তু শেষ পর্যায়ে এসে উক্ত রোগীদের চিকিত্সা করা আরও কঠিন ও ব্যয়বহুল। অনেক পরিবারই এই ব্যয় বহন করতে সক্ষম হন না কিংবা অবহেলা করেন,যার ফলশ্রুতিতে উক্ত রোগীদের একটি অংশ মৃত্যুর কোলে ঢোলে পড়েন। সুতরাং,যথাসময়ে যথাস্থানে চিকিত্সা গ্রহণ করার ব্যাপারে সচেতন হওয়াও অনেক জরুরী।  
 আমরা দেখেছি যে, দীর্ঘ মেয়াদী লিভার প্রদাহ ও সিরোসিসের জন্য দায়ী মূল ভাইরাস দুটি হলো হেপাটাইটিস বি ও সি ভাইরাস। বাংলাদেশে নবাগত শিশু থেকে শুরু করে বয়োবৃদ্ধ নারী-পুরুষ সবাই বি ও সি ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকির মধ্যে আছে। এর পেছনে উল্লেখযোগ্য কারণগুলো হলো: হেপাটাইটিস বি এবং সি ভাইরাস সমপর্কে সচেতনতার অভাব,সার্জারী, গাইনী ও ডেন্টিস্ট্রীর কাজে ব্যবহূত যন্ত্রপাতীগুলো ঠিকভাবে জীবানুমুক্ত না করা,উত্স যাচাই না করে রক্ত গ্রহণ,ইনজেকশন ঠিকমত ডিসপোস না করা এবং নাপিত কতৃক একই ব্লেড পুন:পুন: ব্যবহার। এছাড়া,এমন অনেক পরিবার পাওয়া যাচ্ছে যাদের একাধিক সদস্য হেপাটাইটিস ‘বি’-তে আক্রান্ত। মূলত অনিরাপদ যৌনমিলনের কারণে এবং স্বামী-স্ত্রীর একজন হেপাইটাইটিস ‘বি’-তে আক্রান্ত থাকলে অন্য একজন হেপাটাইটিস ‘বি’-এর টিকা না নেয়ার কারণে স্বামী-স্ত্রী পরস্পর হেপাটাইটিস বি-তে আক্রান্ত হচ্ছে। এছাড়া, জন্মের সময়ে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ সমপর্কে অজ্ঞতার কারণে আক্রান্ত মা থেকে শিশুতে হেপাটাইটিস বি ছড়িয়ে পড়ছে।
 হেপাটাইটিস বি এবং সি আক্রান্ত ব্যক্তি শুধু যে ব্যক্তিগত ভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয় তা নয়। বরং,এর প্রভাব পড়ে উক্ত ব্যক্তির পরিবারে,সমাজে,এমনকি পুরো রাষ্ট্রে। যে ব্যক্তি রক্তে হেপাটাইটিস ‘বি’ বা ‘সি’ বহন করছেন তিনি পরিবারের অন্য একজন সদস্যের আক্রান্ত হওয়ার কারণ হতে পারেন। রক্তে হেপাটাইটিস ‘বি’ বহনকারী ব্যক্তি যোগ্যতা থাকা সত্যেও বিদেশে যাওয়ার ক্ষেত্রে মেডিকেলি আনফিট বিবেচিত হন। পরিবারের একজন কর্মক্ষম ব্যক্তির লিভার সিরোসিস হলে তিনি অসুস্থতার কারণে কোন পেশায় নিয়োজিত হতে পারেন না। বরং,সিরোসিস চিকিত্সার জন্য নিয়মিত অর্থ ব্যয় করতে হয়। ফলে, পরিবারের অর্থনীতির জন্য তিনি একটি বোঝা হয়ে দাড়ান। একটি সমাজে এরুপ বেশ কিছু লোক যদি অকর্মক্ষম হয়ে পড়ে থাকেন,তা সমাজের সামগ্রিক অর্থনৈতিক অগ্রগতির জন্য একটি বাঁধা হিসেবে কাজ করে। সমাজে তারা হেপাটাইটিসের উত্স হিসেবে কাজ করেন। এ ব্যক্তিদের পেছনে রাষ্ট্রের চিকিত্সা ব্যয়ও বেড়ে যায়। অথচ, একটু সচেতন হলে এবং সময়মত টিকা গ্রহণ করলে উপরোক্ত অনেক ব্যক্তিই দীর্ঘমেয়াদী লিভার প্রদাহ প্রতিরোধ করতে পারতেন। অনুরুপ, মানুষের মাঝে উক্ত রোগ সমপর্কে যথেষ্ট জ্ঞান থাকলে যথাযথ সময়ে রোগ নির্ণয় করা, চিকিত্সা শুরু করা এবং দীর্ঘমেয়াদী রোগে পরিণত হওয়া থেকে রক্ষা পাওয়াও সম্ভব।
 হেপটাইটিস রোগের  treatments for hepatitis চিকিত্সা বাংলাদেশেই হয়। এর জন্য অযথা বিদেশে ছোটাছুটি করা অবান্তর। আমরা দেখেছি যে, হেপাটাইটিস ‘এ’ এবং হেপটাইটিস ‘ই’ দ্ব্বারা সৃষ্ট হেপাটাইটিস রোগ অধিকাংশ ক্ষেত্রে দুই থেকে ছয় সপ্তাহের মধ্যে সেড়ে যায়। যথাযথ বিশ্রাম নিলে এবং ডাক্তারের পরামর্শ মত কিছু ওষুধ সেবন করলে ও নিয়মমত খাবার গ্রহণ করলে এই রোগ আপনাআপনিই ভাল হয়। তবে কোন কোন ক্ষেত্রে রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি  করে চিকিত্সা করা লাগতে পারে। যেমন: রোগীর যদি এমন ক্ষুধামন্দা,বমি বমি ভাব ও বমির প্রবণতা থাকে যে রোগী মুখে কোন খাবার গ্রহণ করতে পারছে না। এছাড়া, গর্ভবতী মহিলা ‘ই’ ভাইরাসে আক্রান্ত হলে ও মহামারী আকারে ভাইরাল হেপাটাইটিস দেখা দিলেও হাসপাতালে ভর্তি করার প্রয়োজন হতে পারে।    
 হেপাটাইটিস ‘বি’ ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীর কয়েকটি পরিণতি হতে পারে। সে লক্ষণহীন অবস্থায় হেপাটাইটিস ‘বি’ ভাইরাসের সারফেস এন্টিজেন বহন করতে পারে। এ অবস্থায় বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের অধীনে নিয়মিত ফলোআপ-এ থাকতে হয়, যেন যে কোন সময় ভাইরাস বংশবৃদ্ধি শুরু করলে চিকিত্সা করা যায়। যে সকল রোগী লক্ষণহীন অবস্থায় থাকে, কিন্তু ভাইরাস লিভারে একটিভ থাকে তথা বংশবৃদ্ধি করতে থাকে তাদের ক্ষেত্রে ইনজেকশন বা মুখে নেয়ার ওষুধ দিয়ে চিকিত্সা করা যায়, যা বাংলাদেশে সহজপ্রাপ্য। এছাড়া বাংলাদেশের লিভার বিশেষজ্ঞগণ ‘বি’ ভাইরাস থেকে সৃষ্ট সিরোসিস রোগের চিকিত্সাও সফলতার সাথে করে আসছেন। যারা দীর্ঘদিন ধরে হেপাটাইটিস ‘সি’ ভাইরাস বহন করছেন তাদের চিকিত্সাও বাংলাদেশে হচ্ছে এবং নতুন চিকিত্সায় ৯০ শতাংশ পর্যন্ত রোগীকে ভাল করা সম্ভব। এমনকি,‘বি’ ও ‘সি’ ভাইরাসজনিত লিভার ক্যান্সারের hepatitis c treatment cost ক্ষেত্রে লিভার ট্রান্সপ্ল্যানটেশন করার চেষ্টাও বাংলাদেশের লিভার বিশেষজ্ঞরা শুরু করেছেন।
 হেপাটাইটিস রোগ থেকে মুক্তির উপায় Cures for hepatitis 
উপরোক্ত আলোচনা থেকে আমাদের কাছে যে বিষয়টি দিবালোকের মত স্পষ্ট তা হলো হেপাটাইটিস রোগের প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে আমাদের ব্যক্তিপর্যায় থেকে শুরু করে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ের সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে। ব্যক্তি ও সামাজিক পর্যায়ে এ রোগ সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সেমিনার, সিমেপাজিয়াম, আলোচনা সভার আয়োজন করতে হবে। দেশের মিডিয়ার ভুমিকা এক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশী। সাংবাদিক বন্ধুগ বিভিন্ন স্বাস্থ্য সচেতনতামূলক আর্টিকেল ও অনুষ্ঠানের মাধ্যমে গণমানুষের মাঝে হেপাটাইটিসের লক্ষণ, প্রতিকার ও প্রতিরোধ সমপর্কে তথ্য পৌছে দিবেন। ভবিষ্যতে হেপাটাইটিস রোগের প্রতিরোধ ও প্রতিকার কল্পে সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা নিতে হবে। বাংলাদেশে সরকার যেমন টিকাদান (hepatitis treatment)কর্মসূচীকে উল্লেখযোগ্য সফলতায় নিতে সক্ষম হয়েছে, তেমনি সরকারের উপযুক্ত পৃষ্ঠপোষকতা পেলে লিভার বিশেষজ্ঞ চিকিত্সকদের সহযোগীতায় হেপাটাইটিস রোগের ব্যপ্তিও কমিয়ে আনা সম্ভব।
 পারিবারিক ও সামাজিকভাবে লজ্জায় পড়ার ভয়ে রক্তে হেপাটাইটিস বি বহনকারী অনেক ব্যক্তি তা প্রকাশ করেন না। ফলে, তারা যথাসময়ে চিকিত্সা গ্রহন করেন না। এছাড়া, বিভিন্ন ভুল ধারণার কারণে তারা তাদের কর্মস্থল থেকে ছিটকে পরেন। এ সকল ব্যক্তিদের মানসিক সাহস প্রদান করা এবং কর্মস্থলের প্রতিবন্ধকতা দূর করার মাধ্যমে  কর্মস্থলে ফিরিয়ে নেয়া গেলে একদিকে তারা চিকিত্সা গ্রহনে আত্মবিশ্বাসী হবেন, অন্যদিকে অর্থনৈতিকভাবেও তাদের পরিবার ও সমাজ উপকৃত হবে। যথাসময়ে চিকিত্সা গ্রহণ করার কারণে বি ভাইরাসের প্রাদুর্ভাবও কমে আসবে।
 উপসংহার 
প্রতি বছর বিশ্ব হেপাটাইটিস দিবসের একটি স্লোগান থাকে। এবারের স্লোগানটি হলো- “হেপাটাইটিস প্রতিরোধ: নির্ভর করছে আপনার উপর।” অর্থাত্ হেপাটাইটিস প্রতিরোধে ব্যক্তি পর্যায়ের সচেতনতা এবং উদ্যোগ অত্যন্ত জরুরী। সুতরাং, ব্যক্তি, সমাজিত ও রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে দীর্ঘমেয়াদী রিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়নের মাধ্যমে আমরা হেপাটাইটিস রোগের প্রতিরোধকল্পে সম্মিলিত ভাবে এগিয়ে যাবো। একমাত্র এভাবেই জনসচেতনতা তৈরীর মধ্য দিয়ে গড়ে উঠবে হেপাটাইটিস মুক্ত বিশ্ব। 

লেখক: অধ্যাপক মবিন খান পরিচালক
দি লিভার সেন্টার, ঢাকা, বাংলাদেশ
মির্জা গোলাম হাফিজ রোড 
বাড়ী নং-৬৪, রোড নং-৮/এ
ধানমন্ডি, ঢাকা

আরো অনেকে খুজেছে

    hepatitis b virus bangla; hepatitis b bangla; hepatitis b in bangla language; hbsag positive treatment in bangladesh; hbsag bangla; হেপাটাইটিস বি কি ভাল হয়; hbsag কি; what is hbs test bangla; Hbs ag tipes; jaundice bengali; HBsAg bangla details; about hepatitis B in bangla; hepatitis b er lokkhon; হেপাটাইটিস বি মানে কি; hepatitis bangla; hepatitis c কি; hepatitis b virus tips bangla; hepatitis details in bengali; hepatitis b virus হওয়ার লক্ষন; hepatitis disease bangla; hepatitis in bangla; বুকের ডান পাজর ব্যথা কোন রোগের লক্ষণ; বাংলা hepattitis b; ইসলামিক ছড়াই বর্ণমালা; hipotisis b virus bangla; Hhs ag ki bangla; hepatits bangla health; হেপাটাইটিস ডি; হেপটাইটিস বি পজিটিভ খাওয়া; হেপাটাইটিস বি হলে কি করলে তা দ্রুত ভাল হয়ে যায়; hepatitis b info in bangla language; hepatitis b er chikasa in bangla; hapatitis b for bangladesh; H b s ৩র থেকে মুক্তি পাওয়ার উপায়; Bangl hbs tips; b virus detail bangla front; b viras থেকে মুক্তি পাওয়ার কোন উপায়; b viras halth tips বাংলা; b vairus bangla helps; Anti HBs কি ভালো; hbeag positive কি; hbs ag bangla; HBs Ag positive চরানো উপায়; hepatitis b bangladesh; Hepatites b possitive বাংলা; Hepataitis b simptoms in bengali language; HCV প্রতিকারের উপায় কি; hbv treatment in bangladesh; hbsag positive কি?; hbsag positive কি রোগের নাম??; hbs bangla aps; about hepatises B virus in বাংলা;

ভাইরাল জ্বর হলে করণীয় – Viral Fever Tips

এখন প্রায় ঘরে ঘরে জ্বর, সর্দি, কাশি হচ্ছে। অনেকে আবার আক্রান্ত হচ্ছেন নিউমোনিয়ায়। অথচ সামান্য পরিচর্যা ও ওষুধ সেবনে জ্বর, সর্দি-কাশি ভালো হয়। আর জ্বরে আক্রান্তদের মধ্যে শিশু-কিশোররাই বেশি।
জ্বর একসপ্তাহ পার হলে আমরা সাধারণত ভাইরাল ফিভার ভাবি না। এটা সম্ভবত শ্বাস-প্রশ্বাসের সংক্রমণ বা অন্য কোন কারণে জ্বর হতে পারে। এছাড়া ভাইরাল জ্বরের অন্যতম প্রধান লক্ষণ হলো শরীরের পেশীতে প্রচণ্ড ব্যথা, চোখ লাল হওয়া ও নাক দিয়ে পানি পড়া ইত্যাদি। তাই এ ক্ষেত্রে বিলম্ব না করে চিকিত্সকের পরামর্শ অনুযায়ী যে কোন এন্টিবায়োটিক শুরু করা উচিত।

ভাইরাল জ্বর হলে করণীয় – Viral Fever Tips

পাশাপাশি জ্বর ১০১ ডিগ্রি ফারেন হাইটের বেশি হলে প্যারাসিটামল দিনে ৩ বার খাওয়ার পর দেয়া যেতে পারে। এ ছাড়া সর্দি-কাশি হলে যে কোন এন্টি-হিস্টামিন জাতীয় ওষুধ সকালে ও রাতে দেয়া যেতে পারে। শরীর ব্যথা হলেও প্যারাসিটামল সেবন করা যায়। তবে মনে রাখতে হবে ওষুধ সেবনের ৩ থেকে ৫ দিনের মধ্যে জ্বর নিরাময় না হলে অবশ্যই রক্ত পরীক্ষা করে ওষুধ সেবন করানোর দরকার হতে পারে।
এ ক্ষেত্রে ইউরিন রুটিন, রক্তের সিবিসি, রক্তের ভিডাল টেস্ট (Widal Test)অথবা রক্তের কালচার (Blood Culture)করা উচিত। এসব পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে ইউরিনের প্রদাহ, টাইফয়েড অথবা ডেঙ্গুজ্বর হলে ধরা পড়বে। তখন অধিক সময় ওষুধ সেবনের প্রয়োজন হবে। তবে মনে রাখবেন জ্বর বেশীদিন থাকলে এবং সাধারণ চিকিত্সায় ভালো না হলে অবশ্যই চিকিত্সকের পরামর্শ নেয়া বাঞ্ছনীয়।

আরো অনেকে খুজেছে

    fever in bangla; widal অর্থ; What is bangla fever?; virus jor bangla; virus fever bangla health tips; health tips about fever bangla; ভাইরাল অর্থ; fever bangla; fever about in bangla; fevar tips in bangla; Doctor tips in bangla fever; bangla version on viral fever cure; ভাইরাল ফিভারের সমাধান;

Thursday, December 1, 2016

পিঠের ব্যথায় করণীয় – Low back pain

পিঠব্যথা সমস্যা যে কারো জন্যই খুব যন্ত্রণাদায়ক অবস্থা। পিঠব্যথা সম্বন্ধে জানতে হলে প্রথমে মেরুদণ্ড (Spine) সম্পর্কে জানা প্রয়োজন। মেরুদণ্ড একটি মাত্র হাড় নয়, ৩৩টি হাড়ের সমন্বয়ে এটা তৈরি। প্রতিটি হাড় কার্টিলেজের কুশন দিয়ে পৃথক রয়েছে। এই কুশনকে বলে ডিস্ক (Disc)।
 এর কারণে মেরুদণ্ড সামনে-পেছনে বাঁকানো সম্ভব। মেরুদণ্ড নিখুঁতভাবে সোজাসুজি বা সিধা নয়। পাশ থেকে দেখলে এর স্বাভাবিক আকৃতি হলো ইংরেজি অক্ষর ঝ-এর মতো। পিঠব্যথা প্রতিরোধের প্রধান শর্ত হলো- যেকোনো কাজ করার সময় দেরুদণ্ডের এই আকৃতি অক্ষুণ্ন রাখা। পেটের এবং পিঠের মাংসপেশিগুলো মেরুদণ্ডকে সাপোর্ট দেয় এবং নড়াচড়ায় সহায়তা করে

পিঠব্যথার কারণ

পিঠব্যথার কারণগুলো মেরুদণ্ড এবং তার সহায়তাকারী মাংসপেশিগুলো থেকে উত্পন্ন হতে পারে অথবা শরীরের অভ্যন্তরীণ অঙ্গগুলো যাদের স্নায়ু সরবরাহের কিছু শাখা পিঠে বিস্তৃত- সেখান থেকেও পিঠব্যথা হতে পারে। শরীরের অভ্যন্তরীণ অঙ্গগুলোর কিছু সমস্যা দেখা দেয়ার কারণেও পিঠের নিচের অংশে ব্যথা হতে পারে।
 
পিঠব্যথার সবচেয়েসাধারণ কারণগুলো হলো
  • মেরুদণ্ডের স্বাভাবিক আকৃতি বজায় রাখতে সহায়তাকারী পেট ও পিঠের মাংসপেশিগুলো দুর্বল হওয়া।
  • মেরুদণ্ডের হাড়ের দুর্বল স্থাপন, যার কারণে মেরুদণ্ডের ঝ আকৃতি ঠিক থাকে না।
  • দীর্ঘ সময় ধরে বসে থাকলে, দাঁড়িয়ে থাকলে কিংবা একই অবস্থানে থাকলে। এ ক্ষেত্রে দীর্ঘক্ষণ থাকার কারণে মাংসপেশিতে টান পড়ে, মাংসপেশি সঙ্কুচিত হয়।
  • হঠাত্ করে শরীর মারাত্মক ঝাঁকি খেলে কিংবা শরীর বাঁকা হলে। এতে মাংসপেশিতে টান পড়ে এবং পেশি ছিঁড়ে যেতে পারে। কোনো ভারী জিনিস ওঠানোর সময় এ অবস্থা হতে পারে।
  • মেয়েদের মাসিকের সময় জরায়ুর সঙ্কোচনের কারণে পিঠে ব্যথা হতে পারে।

    পিঠের ব্যথায় করণীয় – Low back pain

    পিঠব্যথা কীভাবে প্রতিরোধ করা যায়

    • পিঠব্যথা প্রতিরোধ করতে হলে সর্বদা মেরুদণ্ডের আকৃতি স্বাভাবিক রাখতে হবে। এর জন্য যা করতে হবে তা হলো-
    • দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকা যাবে না। যদি দীর্ঘক্ষণ দাঁড়ানোর প্রয়োজন দেখা দেয়, তাহলে একটি পা প্লাটফর্মের ওপরে কিংবা টুলের ওপরে রেখে দাঁড়াতে হবে।
    • চেয়ারে বসে কাজ করার সময় কিংবা চেয়ারে বসে থাকার সময় যদি চেয়ারটি আপনার পিঠকে ঠিকমতো সাপোর্ট দিতে না পারে তাহলে চেয়ার ও আপনার পিঠের মধ্যকার ফাঁকা জায়গাটি পূরণে কুশন ব্যবহার করুন।
    • ঘুমানোর সময় কিছু সতর্কতা অবলম্বন করুন। যেমন- শক্ত
    • তোশক বা জাজিমের ওপর ঘুমান। মুখ নিচের দিকে রেখে ঘুমাবেন না, চিত্ হয়ে ঘুমাবেন। যদি পাশ ফিরে ঘুমাতে চান, তাহলে সে পাশে একটা হাঁটু সামান্য বাঁকা করে ঘুমাবেন।

    পিঠব্যথা প্রতিরোধে পেট ও পিঠের মাংসপেশিকে সবল করার উপায়

    নিয়মিত কিছু ব্যায়াম করলে
     
    পেট ও পিঠের মাংসপেশি সবল হয়। এই ব্যায়ামগুলোর প্রতিটি ১০ বার করতে হবে। মাংসপেশির সবলতা বাড়লে ব্যায়ামের পরিমাণ আরো বাড়ানো যাবে। যদি কোনো ব্যায়ামের কারণে ব্যথা হয় তাহলে ওই ব্যায়াম বন্ধ করে দিতে হবে।
     
    ১. হাঁটু বাঁকা করে চিত হয়ে শুতে হবে। পেটের মাংসপেশিগুলো সঙ্কুচিত করে পিঠকে মেঝের বিপরীতে চাপ দিতে হবে। মনে মনে পাঁচ পর্যন্ত গুনে তারপর শিথিল করতে হবে।
     
    ২. যত দূর পারা যায় মাথা ও কাঁধ ওপরের দিকে তুলতে হবে। মনে মনে পাঁচ পর্যন্ত গুনে তারপর শিথিল করতে হবে।
     
    ৩. উপুড় হয়ে শুতে হবে। ডান পা’টি সোজা রেখে যত দূর সম্ভব ওপরে তুলতে হবে। মনে রাখতে হবে, এ সময় হাঁটু কিছুতেই ভাঁজ করা যাবে না। মনে মনে পাঁচ পর্যন্ত গুনে তারপর ধীরে ধীরে পা নামাতে হবে। এরপর বা পা’টি একই রকম করতে হবে। প্রতি পায়ের জন্য পাঁচবার এটা করতে হবে। কারো একবার পিঠব্যথা হলে ব্যথা সেরে যাওয়ার পর আবার যাতে এ ধরণের ব্যথা না হতে পারে, সেই লক্ষ্যে ব্যথা প্রতিরোধ করার জন্যও এসব ব্যায়াম করা যেতে পারে।

    আরো অনেকে খুজেছে

      back pain bangla; back pain in bangla; pain bangla; Ahratic paine bangla; low back pain bangala; beack pain bangla; Bangla Pain; bangla beack pain; bangla back; back paine bangla; back pain sagetion Bengali; Sulation of pain (Bangali);